ঢাকা , শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬ , ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচনী সাধারণ ছুটি পাচ্ছে না যেসব প্রতিষ্ঠান মানুষের কাছ থেকে কষ্ট পেয়ে বাড়িতে সাপ পুষছেন আশরাফুল, অতঃপর... ডব্লিউএইচও থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিল যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিয়ারে সফলতা চাইলে প্রয়োজন এই ৫ দক্ষতা আইসিজেতে রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উপস্থাপন মিয়ানমারের, তীব্র প্রতিবাদ বাংলাদেশের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে গণজোয়ার দেখা যাচ্ছে: প্রেস সচিব ওয়ালটনের পরিচালক মাহাবুব আলম মৃদুলের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ কুয়েতে প্রতি ৭৫ মিনিটে একটি তালাক ২ বছরের আগে ভাড়া বাড়ানো যাবে না, বাড়ির বাজারমূল্যের ১৫ শতাংশের বেশি হবে না: ডিএনসিসি ইভ্যালির রাসেল-শামীমা ফের গ্রেপ্তার নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা দিলেন জামায়াত আমির বাসররাতে মুখ ধোয়ার পর কনেকে চিনতে পারলো না বর, অতঃপর...  ভিক্ষা করে কোটিপতি, আছে বহুতল ৩ বাড়ি ও মারুতি সুজুকি গাড়ি Co আইনজীবী আলিফ হত্যা: চিন্ময় দাসসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন এবার পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন তথ্য দিলেন অর্থ উপদেষ্টা নাসা গ্রুপের সম্পত্তি বিক্রি করে পরিশোধ করা হবে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাহি ও জয়কে গ্রিনকার্ড দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র, গুঞ্জনে সতর্ক তারকারা গুলশানে বার ড্যান্সারের মরদেহ উদ্ধার শিক্ষিত তরুণদের ওপর সমাজ পরিবর্তনের দায়িত্ব বেশি -মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

আইসিজেতে রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উপস্থাপন মিয়ানমারের, তীব্র প্রতিবাদ বাংলাদেশের

  • আপলোড সময় : ২৪-০১-২০২৬ ০৯:৩০:২৫ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৪-০১-২০২৬ ০৯:৩০:২৫ পূর্বাহ্ন
আইসিজেতে  রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উপস্থাপন মিয়ানমারের, তীব্র প্রতিবাদ বাংলাদেশের
আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ‘গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার’ মামলায় রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসাবে অভিহিত করে মিয়ানমারের দেওয়া বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকা বলছে, ২০১৬-১৭ সালের জাতিগত নির্মূল অভিযানকে সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযান হিসাবে জায়েজ করতে এবং বিশ্ববাসীর নজর ঘুরিয়ে দিতে পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় বিকৃত করছে মিয়ানমার।শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত প্রাথমিক আপত্তি তোলে বাংলাদেশ।





বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসাবে চিত্রায়িত করার মাধ্যমে মিয়ানমার তাদের ‘অবৈধ অভিবাসী’ ও ‘অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার হুমকি’ হিসাবে প্রমাণ করতে চাইছে। এর মাধ্যমে তারা তথাকথিত ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ বা শুদ্ধি অভিযানকে সন্ত্রাসবাদবিরোধী পদক্ষেপ হিসাবে বৈধতা দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বাংলাদেশ একে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ আড়াল করার কৌশল হিসাবে বর্ণনা করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রোহিঙ্গারা একটি স্বতন্ত্র জাতিগত গোষ্ঠী যা ১৭৮৫ সালে বর্মণ রাজ্যের অংশ হওয়ার আগেও আরাকানে শতাব্দী ধরে বিকশিত হয়েছিল। পুরাতন আরাকানের রাজধানী মায়ো-হাউং বা ম্রো-হাউং বা রোহাউং-এ তাদের উপস্থিতির কারণে তাদের চট্টগ্রামের রোশাং বা রোহাং এবং বৃহত্তর বাংলায় সম্প্রসারিতভাবে বলা হতো। তাই শুরুতে এটি একটি স্পষ্ট বহির্নামের ঘটনা ছিল। ঐতিহাসিক দলিল, ঔপনিবেশিক জনতাত্ত্বিক বিবরণ এবং স্বতন্ত্র গবেষণায় রাখাইনে রোহিঙ্গাদের উপস্থিতির অকাট্য প্রমাণ রয়েছে। ফলে তারা বিদেশি বা সাম্প্রতিক অভিবাসী-মিয়ানমারের এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।





পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করেছে, ১৯৮২ সালের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন জারির আগ পর্যন্ত রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে কোণঠাসা করা হলেও তারা ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত ভোটাধিকার ভোগ করেছে। রোহিঙ্গাদের পদ্ধতিগতভাবে ‘বাঙালি’ বলে ডাকার উদ্দেশ্য হলো তাদের নিজস্ব পরিচয়ের অধিকার অস্বীকার করা এবং জাতিগত নিধনের প্রেক্ষাপট তৈরি করা। যদিও রোহিঙ্গাদের ভাষায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপভাষার সঙ্গে কিছু মিল রয়েছে, কিন্তু সংস্কৃতি ও পরিচয়ের দিক থেকে তারা সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র।






বিজ্ঞপ্তিতে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় যে, ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় প্রত্যাবাসন চুক্তিতে রোহিঙ্গাদের ‘বার্মার আইনানুগ বাসিন্দা’ হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। এমনকি ২০১৭-১৮ সালেও নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নেপিডো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলেও গত আট বছরে তারা রাখাইনে কোনো অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেনি। এই নিষ্ক্রিয়তা রোহিঙ্গাদের ধ্বংস করার উদ্দেশ্য হিসাবে গণ্য হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ।





এ ছাড়া ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় প্রায় ৫ লাখ বাংলাদেশি রাখাইনে আশ্রয় নিয়েছিল বলে মিয়ানমার যে দাবি করেছে, তাকে কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে সরকার। বাংলাদেশ মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে রোহিঙ্গাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নির্বাচনী সাধারণ ছুটি পাচ্ছে না যেসব প্রতিষ্ঠান

নির্বাচনী সাধারণ ছুটি পাচ্ছে না যেসব প্রতিষ্ঠান